২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, সংস্কার প্রক্রিয়ার গণরায় কার্যকর এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে মাসব্যাপী দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত, যার মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভ, বিভাগীয় সমাবেশ, সেমিনার ও মানববন্ধন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে 'জুলাই সনদ' প্রণীত হলেও তার কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন: "গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করে সরকার সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। এটি জাতির সাথে প্রতারণা।"
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংসদীয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দেশে আবারও এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
বক্তব্যে জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ বিগত ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং দুর্নীতির পথ খোলা রাখা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি (১ জুলাই – ৫ আগস্ট)
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৩৬ দিনের জন্য ১১ দলের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে:
১. ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলা ও মহানগর পর্যায়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে।
২. ৪ জুলাই রাজধানী ব্যতিত সকল জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
৩. ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন আয়োজন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
৪. ৮ জুলাই জাতীয় সেমিনার আয়োজন।
৫. ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ
৬. ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ।
৭. ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ।
৮. ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৯. ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী এবং জুলাই আন্দোলনের সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থলগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
১০. ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ।
১১. ৩১ জুলাই দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
১২. ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়; বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আমরা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা আরিফুল ইসলাম আদিব, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, খেলাফত মজলিসের নেতা আনোয়ার হোসেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বিডিপির সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।