”মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়,
জাতীয় সংসদে আপনার প্রদত্ত বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ব্যাংকের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একজন শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের একজন সচেতন অংশীজন হিসেবে আমরা এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
আপনি সংসদে দাবি করেছেন যে, আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং তার পূর্বে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে; অর্থাৎ মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অর্থ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে গেছে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কিন্তু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য তুলে ধরে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী—
২০২৪ সালে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৬,৭১২ কোটি টাকা।
২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬,৭৮৯ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১.১৪ শতাংশ।
একটি ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে ঋণ বিতরণ, ঋণ স্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে—যদি সত্যিই অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা কিংবা মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রতিফলন কোথায়?
আরডিএস প্রকল্পের আর্থিক অবস্থাও প্রতিবেদনে সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র ২৩২ কোটি টাকা।
ঋণ আদায়ের হার ৯৭.৫০ শতাংশ।
২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৮.৪৯ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পুনরুদ্ধার হার বজায় রেখে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—
দেশের ৩৫,৩৫২টি গ্রাম এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে;
১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবার অর্থায়ন সুবিধা পেয়েছে।
এমন একটি জাতীয় পর্যায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা কিংবা এর উপকারভোগীদের সম্পর্কে সাধারণীকৃত মন্তব্য করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আমরা বিনীতভাবে জানতে চাই—
১. সংসদে উত্থাপিত ১১ হাজার কোটি ও ২২ হাজার কোটি টাকার তথ্যের উৎস কী?
২. এই তথ্য কি বাংলাদেশ ব্যাংক, কোনো নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে?
৩. যদি তথ্যগুলো নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে জাতির সামনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে কি?
৪. একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনকে অতিক্রম করে প্রদত্ত এমন বক্তব্যের জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। সেখানে উপস্থাপিত প্রতিটি তথ্য জনগণ সত্য ও নির্ভরযোগ্য বলে গ্রহণ করে। ফলে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্যগত অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনে তথ্যগত সংশোধন আনা হবে।
সশ্রদ্ধ,
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর উদ্বিগ্ন শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ”