ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশনের আওতাধীন দেশের সকল শাখার প্রথম প্রান্তিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সমন্বিত মেধা তালিকায় ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল এন্ড কলেজ যশোরের ৩২ জন শিক্ষার্থী স্থান লাভ করে অসাধারণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। এ অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মেধা তালিকায় প্লে শ্রেণি থেকে ৫ জন, নার্সারি থেকে ৫ জন, কেজি থেকে ২ জন, প্রথম শ্রেণি থেকে ৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ১ জন, তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৪ জন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ২ জন এবং পঞ্চম শ্রেণি থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় সাফল্য অর্জন করেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিরা ফাইরুজ এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ তাহসান ইসলাম জাতীয় সমন্বিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবু ফয়সাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল শারাফাত হোসেন বলেন, ৩২ জন শিক্ষার্থীর কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এই অর্জন শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার ফল। আমি সকল শিক্ষার্থীকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শ চরিত্র গঠনের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতেও আমরা মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
আরেক শিক্ষাবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যে ধরনের আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ প্রয়োজন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ তা সফলভাবে নিশ্চিত করছে। যশোরে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির অবদান প্রশংসার দাবিদার।
অভিভাবকদের মধ্যেও এ সাফল্য ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। অভিভাবক ড. মেহেনিয়াজ উম্মে তাবাসসুম বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক ও নৈতিক বিকাশেও প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত আন্তরিক। সন্তানকে এখানে পড়ানোর সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।
অপর এক অভিভাবক হুমায়ুন কবির মিলন বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। এ প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্য তারই প্রমাণ।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের জন্য সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরে আধুনিক, মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে যশোরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। সর্বশেষ এই সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।