আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই মানেই ফুটবলের পাশাপাশি রাজনৈতিক ইতিহাস ও পুরোনো বৈরিতার আলোচনাও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

চলতি বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পরিচালনা করবেন মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথ।

৪৪ বছর বয়সী এলফাথ এবারের টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন—জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস, উরুগুয়ে বনাম স্পেন এবং ব্রাজিল বনাম নরওয়ে। এই তিন ম্যাচে তিনি ছয়টি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। লাল কার্ডটি পেয়েছিলেন উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোব্বিও।

এই ম্যাচে এলফাথকে সহায়তা করবেন তারই স্বদেশি সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিন্স। কনকাকাফ অঞ্চলের দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের জন্য এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ২০০৫ সালের পর এই প্রথম একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। আর ২০০২ বিশ্বকাপের পর এটি হবে দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপের লড়াই, যা ম্যাচটির গুরুত্ব ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দুই দেশের আগের ম্যাচগুলো নানা বিতর্কে ঘেরা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ১৯৯৮ সালে দিয়েগো সিমিওনের ওপর ফাউল করার কারণে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড।

এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার যাত্রাও বেশ কয়েকটি আলোচিত রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার আইসা মান্দির ওপর ফাউল করার পরও লিওনেল মেসি লাল কার্ড এড়িয়ে যাওয়া।

এছাড়া মিশরের কোচ হোসাম হাসান দাবি করেছিলেন, রাউন্ড অব ১৬-তে ৩-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে ভিএআরের হস্তক্ষেপে তার দলের একটি গোল বাতিল হওয়ায় তারা ‘অন্যায়ের’ শিকার হয়েছেন।

কোয়ার্টার ফাইনালেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে দেখানো একটি কার্ড বাতিল করে সেটি সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোকে দেন রেফারি। পরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।