হারুন-আর-রশিদ

এক সময়ের ঐতিহাসিক নগরি ঢাকার অধিকাংশ আবাসিক এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সবটাই আজ নিখোঁজ সংবাদ। অপ্রিয় শোনালেও সত্য, নান্দনিক আবাসিক এলাকা তার শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি প্রায় সবটাই বিলুপ্ত হতে চলেছে। রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আর রমরমা কোচিং সেন্টার এবং বহুতল বিশিষ্ট শপিংমল। সোরগোল হৈ-হুল্লোড় আর শব্দ বোমায় আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দিন শেষে নিরিবিলি বসবাসের সুযোগ থেকে আজ অনেকটা বঞ্চিত ও ম্রিয়মাণ। কোলাহলময় জীবন থেকে একটু নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে আবাসিক এলাকায় ‘একটি ফ্লাট বাড়ি কিনেছেন যে প্রত্যাশায়’ সেটা এখন আর শান্তি নয় অশান্তিতে রুপ নিয়েছে। ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ না করার কারণে সব মানুষ আজ ঢাকা মুখি হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি প্রথম দফা ছিল গ্রাম সরকার। গ্রামকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুললে ঢাকায় তীব্র যানজট ও জনজট থেকে ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দারা শারীরিক-মানসিক কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পেতো। শিল্প কারখানা স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হাসপাতাল নির্মাণ করলে স্বনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি ঢাকার উপর অত্যাধিক মানুষের চাপ হ্রাস পেতো। ঢাকার ৪ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি মানুষ গ্রাম থেকে এসেছে। এতে অপরাধ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। মানুষের খরচ বেড়েছে। মানুষ স্বস্তিতে ঢাকায় বসবাস করতেও পারছে না। গ্রাম থেকে মানুষ শহরমুখী হওয়ার কারণে আবাসিক এলাকাগুলো তার আপন গতিতে বাণিজ্যিক রুপ ধারণ করেছে।

ঢাকার উত্তরা, বনশ্রী, বাড্ডা, মালিবাগ, শান্তি নগর, মগবাজার, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরঝিল ও বুড়িগঙ্গার কোল ঘেষে গড়ে ওটা আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে নানাধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্টরি, কোচিং সেন্টার, হাসপাতাল, কলেজ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এলোপাতাড়ি গাড়ি পার্কিং দিনের ১০/১২ ঘণ্টা রাস্তার দুই পাশে দখল করে রাখে। এসব নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি চলছে দেদারসে।

স্বাভাবিক যান চলাচল এবং মানুষ চলাচল এ যেন নিয়মিত এক বড় বাধা। যানজট, জনজট থেকে দুর্ঘটনার শিকার এ যেন নগরীর নিত্যদিনের চিরচেনা দৃশ্য। রাস্তার ভাসমান দোকান পাট এবং রাস্তায় দুই পাশে ফুটপাত দখল করে যেসব দোকানীরা কেনা-বেচা করে, প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে তারা মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করে। এ দৃশ্য লালমাটিয়ার ঐতিহাসিক বিবি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেশি দৃশ্যমান। আছে এখানে বিশালাকার বস্তি। মাদকাসক্ত মানুষের এসব এলাকায় আনাগোনা চলছে অবিরত। এ সব এলাকায় বর্জ্য আবর্জনাও বেশি। তেমনি বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যায়। টিস্যু পেপার বা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে পথ চলতে হয়। লালমাটিয়া আবাসিক এলাকা রুচিশীল মানুষদের। দুর্গন্ধময় বায়ু পুরো ঢাকাজুড়ে। ২০২৬ মার্চ পত্রিকায় উঠেছে ঢাকা বায়ু দূষণ বিশ্বে এখন শীর্ষে।

কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে দেখলাম ভিন্ন দৃশ্য। সেসব দেশে আাবাসিক এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক ভবন গড়ে ওঠেনি। আবার বাণিজ্যিক এলাকায় নেই কোনো আবাসিক ভবন। খেলার মাঠ, পার্ক, সবকিছুই সমদূরত্ব বজায় রেখে আধুনিক নির্মাণ কাঠামো গড়ে উঠেছে। দেখতে অনেকটা সাজানো গুছানো ছবির মত। যেটা যেখানে দরকার অর্থাৎ স্বাস্থ্যের অনুকূলে এবং পরিবেশ বান্ধব সেভাবেই নির্মাণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ঐসব দেশের সরকার বলে বৃক্ষ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। অক্সিজেন সরবরাহ করে ‘গাছ-গাছালি ও ঘন বন’ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে সুস্থভাবে। তাই সেইসব দেশের সরকার ও জনগণ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃক্ষ রোপণ করে শুধু বায়ুকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য। তারা গাছ লাগায় আর আমরা করি গাছ কর্তন। ঢাকার পরিবেশ দূষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকার মূল কারণ মাত্রাতিরিক্ত বৃক্ষ নিধন। আমাদের দেশে অনেকজায়গা বৃক্ষবিহীন আবাসিক এলাকা চোখে পড়বে। রাষ্ট্রযন্ত্রে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ কি? আবাসিক এলাকায় গেলে এর উত্তর টা মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে আর সেটা হলো অবিরত গাছ কাটা। গাদাগাদি লাগালাগি বাড়ি নির্মাণ করা। বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও এমন আইন আছে বলে আমার জানা নাই। আবাসন কোম্পানিগুলো রাজউকের নিয়মনীতি কতটা মেনে চলে সেটা আবাসিক এলাকার নির্মিতি বাড়িঘর দেখলে তা অনুমান করা বা ধারণা করা অতি সহজ হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের আবাসিক এলাকায় গেলে মনে হবে সবকিছুই যেন এক জায়গায় থাকতে হবে।

কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে গিয়ে আমার ধারণা পাল্টে যায়। সৌদি আরব হজে¦ গিয়েও আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার ভিন্নতা দেখে অবাক হলাম। শুধু বাংলাদেশে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার চিত্র অভিন্ন। কোনো নিয়ম নীতিমালা মেনে চলা জরুরি নয়। ইংল্যান্ড ও কানাডার স্থাপনার নির্মাণ কাঠামো দেখতে এতটাই নান্দনিক যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আরও অবাক হতে হয় যার যে এলাকায় জন্ম সেখানেই তাকে বসবাস করতে হবে। এ আইন অলঙ্ঘনীয়। সে যদি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা সচীব হোক তার জন্যেও একই নিয়ম। চিকিৎসা খেলাধূলা সবকিছুই এলাকাভিত্তিক ভাবে গড়ে উঠেছে, তাই যানজট, জনজট, জলজট কিছুই পরিলক্ষিত হয় না। আমরা চালচলনে কতটা পিছিয়ে আছি তা ভাবলে গা শিহরিত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ নিয়ম মাফিক কাজ চর্চা নয়, অনিয়ম মাফিক দোষ চর্চায় ব্যস্ত। হাট বাজার দোকান পাট এবং কাঁচাবাজার মসজিদ মন্দির সম্মুখে গড়ে উঠবে এটাই যেন চিরাচরিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা বাংলাদেশেই সম্ভব। বিদেশে আবাসিক এলাকায় গেলে যে দৃশ্য চোখে পড়বে তা হলো প্রত্যেকটি আবাসিক ভবনের সামনে বড় আকারের খালি চত্বর। আছে সুন্দর আরামদায়ক কেদারা। বাড়িঘর নির্মাণে এতো নান্দনিক কৌশল অবলম্বন করেছে বিদেশে যারা গেছেন তারাই দেখেছেন।

বাংলাদেশের হাই ওয়ে সড়ক ছাড়া কোনো সড়কে নিরাপদে হাঁটা যায় না। আবাসিক এলাকার সড়কগুলো গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা চালানো হয়, যার কারণে বাংলাদেশে ফুটপাথ হয়ে যায় জনগণের জন্য অব্যবহারযোগ্য। এভাবেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি যানজটের। আর মানুষের কষ্ট বাড়তে থাকে। ভাবখানা এরকম যে আমরা সুন্দরকে লালন করব না। অসুন্দরের পুজা করব।

উল্লেখ্য দুটি নিউজ ১২/০৫/২৬ এবং ১৪/০৫/২৬ একটি প্রকাশিত হয়েছে।

পত্রপত্রিকার নানা বিশ্লেষণ এবং জরীপে দেখা গেছে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকা অপরাধ জগৎ এবং মাদকাসক্ত অভরান্যে পরিণত হয়েছে। ঢাকার সবচেয়ে বড় ক্রাইম জোন হলো মোহাম্মদপুর এলাকা। কিন্তু আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় সেরকম তৎপর নয় বলে বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায়। মোহাম্মদপুরের আবাসিক এলাকায় অপরাধজগৎ-এর নেপথ্যে ছিল ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা। নানকের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজীব অর্থের জোগানদাতা, সাবেক ৮ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মাঠে কিলার কাইল্যা, সুমনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। পত্রিকায় এই লীড নিউজ ছাপিয়েছে।

মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া এলাকাকে নিয়ে আরেকটা রিপোর্টে করা হয়েছিল এরকম- আবাসিক এলাকার ঐতিহ্য হারাচ্ছে লালমাটিয়া। ১০ বছর আগের আবাসিক এলাকা এখন শতভাগ বাণিজ্যিক রুপ ধারন করেছে। বর্জ আবর্জনা ও ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ কারপার্কিং এর বেষ্টনী লালমাটিয়ার সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে। এলাকায় সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি ব্যবসা এখন জমজমাট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নীরব। তারা জনগণের সেবক হলে এলাকার অবস্থা এতোটা খারাপ হতো না।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে কলকাঠি নাড়ছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা। অতিরিক্ত ছোট বড় এবং মাঝারি আকারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওটা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা, অসহনীয় যানজট আর বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আবাসিক এলাকার আবাসিক ভাবমর্যাদা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এসব বিষয়ে মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্থানীয় থানা, ওয়ার্ড কমিশনার, বাড়ির মালিক সমিতি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বিভাগ), পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। উল্লেখিত ভয়াবহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় এলাকা গুলোতে। এলাকাবাসী থানা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে আবাসিক এলাকাগুলোতে কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন নামে শত শত কোচিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসবকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও হাটবাজার। এলাকায় পেশাজীবী ভিক্ষুক এতটাই বেড়েছে যে এদের জন্য পথ চলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে মনে হয় রাষ্ট্র আছে কিন্তু তার সেবক নাই। দেশ থেকে সমষ্টিক চিন্তা চেতনা উঠে গেছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ন, ঘনবসতি এবং নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবনের কারণে রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলো উচ্চ ভূমিকম্প ও অগ্নিঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাঝারি বা বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা ও সরু রাস্তার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে হাঁটার সূযোগ কমে যাচ্ছে, এতে শারীরিক-মানসিক সুস্থতার উপর প্রভাব পড়ছে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সাম্প্রতিক জ্বালানির তীব্র সমস্যায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়া, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে কর্মজীবীরা হাঁটতে চাইলেও পর্যাপ্ত রাস্তা ও সুযোগ না থাকায় হাঁটা সম্ভব হচ্ছে-না। রাজধানী হাতিরপুল বাজারে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছুদিন ভাল থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এ সংবাদ পত্রিকায় উঠেছে লীড নিউজ আকারে।

ড্যাপ-২০২২ তৈরি হয়েছিল ঢাকার অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন ঠেকাতে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বাচলকে উত্তরা বা মিরপুরকে বাড্ডার মতো জনঘনত্বের এলাকা হতে না দেওয়া। কিন্তু আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রবল চাপ ও লবিংয়ের মুখে সেই উদ্দেশ্যই এখন ব্যাহত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের আপত্তি সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। এই সিদ্ধান্ত একধরনের আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এটি এমন এক ভবিষ্যতকে নির্দেশ করে, যেখানে ঢাকা আরও বেশি বাসযোগ্যতা হারাবে।

বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের উচিত অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগগুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার। কেবল ব্যবসায়িক চাপ বা মুনাফার লোভে একটি শহরের ভবিষ্যতকে এভাবে বিপদে ফেলা যায় না। ঢাকা যদি এখনো কিছুটা বাসযোগ্য শহর হিসেবে টিকে থাকতে চায়, তবে অপরিকল্পিত নগরায়নের রাশ টেনে ধরতে হবে।

লেখক : গ্রন্থকার ও প্রাবন্ধিক।