ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র এই হামলাকে রাজধানীর ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর বিবিসির।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অতীতে আরও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটলেও এবার রাজধানীর ওপর সর্বাধিক সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার জবাবে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
তবে ইউক্রেন রাশিয়ার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ভাষ্য, আগ্রাসী রাষ্ট্র ও আত্মরক্ষাকারী রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে এক কাতারে দেখা ঠিক নয়।
কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় ৫২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিশু ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের একযোগে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতে ৪৯৬টি ড্রোন এবং ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন রাজধানীর ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে, ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।