বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, শত শত মানুষ জীবনের বিনিময়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছিল একটি নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার আশায়। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মৌলিক সংস্কারের আশায় দেশের মানুষ গণভোটে অংশ নিলেও সেই গণভোটকেই এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। সরকার গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকারের মাধ্যমে মূলত জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। আমরা যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব।

তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার শাহ ওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন বগুড়া অঞ্চলের কৃষিজীবী শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংগঠনের বগুড়া অঞ্চল সভাপতি প্রভাষক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আব্দুল হক সরকার, বগুড়া মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বগুড়া মহানগর সভাপতি আজগর আলী, বগুড়া জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু এবং অ্যাডভোকেট আল আমিন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে গোলাম রব্বানী বলেন, "আমরা বহু প্রাণের বিনিময়ে এক ফ্যাসিস্টকে উৎখাত করে দেশ থেকে তাড়িয়েছি। এখন আবার আরেকটা দল ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে তারও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "সারাদেশে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে মানুষ অতিষ্ঠ। রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎখাত করা মানুষ কখনোই এসব চাঁদাবাজকে ক্ষমা করবে না। সরকার নিজে তাদের দলের চাঁদাবাজদের দমন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করবে।"

সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, "এখনো সময় আছে, তালবাহানা না করে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিন এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার করুন।"