নিখোঁজের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মো. হারুনার রশিদের (৪৬) কোনো সন্ধান না মেলায় গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তার বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. এমরান আলী মাস্টার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমরান আলী জানান, গত ২০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হারুনার রশিদ কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পরই ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ২১ জুন রাতে মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি বলেন, জিডির পর পুলিশ হারুনার রশিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারে, তার মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী-কামারালী এলাকার সীমান্তবর্তী একটি বিলের পাশে। পরদিন পুলিশ ও স্বজনরা সেখানে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালালেও কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে র্যাব-৬ যুক্ত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তবে এখন পর্যন্ত হারুনার রশিদের জীবিত কিংবা মৃত কোনো অবস্থানই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এমরান আলী বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে ১২ দিন পার হলেও আমার ভাইয়ের কোনো খোঁজ আমরা পাইনি। প্রশাসন তদন্ত চলমান থাকার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, হারুনার রশিদ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, এক বিবাহিতা মেয়ে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে এবং মাত্র চার বছর বয়সী একটি ছেলে। তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী খোঁজ নিতে এসে হতাশ ও অশ্রুসজল চোখে ফিরে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত হারুনার রশিদকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ আন্তরিকতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপও দাবি জানানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, একজন মানুষ এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। তারা শুধু তাদের প্রিয় মানুষটিকে নিরাপদে ফিরে পেতে চান এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।