ছয় দফা দাবি আদায়ে সারা দেশে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। একই দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশও করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে। একই দাবিতে বেলা ১১টার পর ক্লাস বর্জন করেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও রবিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের ব্যানারে হাসপাতালের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করে তারা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নতুন নির্দেশনা জারি করা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক প্রস্তাবনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং সীমিতসংখ্যক ভাতার বিধান রাখা হয়েছে, যা তারা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো প্রণয়ন। পাশাপাশি বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়েছে।
রামেক হাসপাতালে কর্মবিরতি রাজশাহী ব্যুরো
ভাতা বৃদ্ধি, বিসিএসে বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার সকাল থেকে সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মবিরতি শুরু হয়।
গত রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রায় ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় তারা তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল এবং বিসিএস চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা। কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও রোগীদের সেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে, যাতে রোগীরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’-এর ডাকে রোববার থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।