গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে (চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির) উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, স্টোডিয়াম মার্কেটের হাজার-হাজার ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী অংশগ্রহন করেন।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিক নেতা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাহীন আহমেদ খান, আহসান হাবীব, এডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, সন্ত্রাস, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের অত্যাচারে গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে। মিছিল শুরুর প্রস্তুতিকালে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। ঐ হামলায় ব্যবসায়ী কবির হোসেন সহ বহু ব্যবসায়ী মারাত্মক রক্তাত্ত জখম নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে! চিহ্নিত সন্ত্রাস-চাঁদাবাজরা এমন ঘটনা ঘটানোর পরও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি! যার ফলে ব্যবসীয় মহলের পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হয় পুলিশ দখলবাজ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের কোনো পদক্ষেপ নেই।

শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা কোনো সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ দেখতে চাই না। কোনো দল যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজকে আশ্রয়-প্রশয় দেয় তবে তাদের পরিণতি হবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই। গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের প্রশয় দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আজকে যারা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের প্রশয় দিয়ে জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাবে তারাও টিকতে পারবে না। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ যদি কোনো দলীয় পরিচয় বহন করে তবে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে আইনের আওতায় নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে, গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়-গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট-ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড প্রদক্ষিণ করে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।